চুল পড়া রোধে করণীয় সমূহ

বর্তমান সময়ে ছেলে মেয়েদের চুল ভরা একটি স্বাভাবিক এবং দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই চুল পড়া যখন শুরু হয় আমরা তখন উদ্বিগ্ন হয়ে যায় এবং কোন ভাবে যাচাই না করেই বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকি যা আমাদের চুল বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আজকের এই পর্যায়ে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব মাথার চুল কেন পড়ে এবং এই চুল পড়া রোধ করার জন্য আপনি প্রাকৃতিক ভাবে কি উপায় অবলম্বন করে চুল পড়া কমাতে পারেন।

সাধারণত দৈনিক দুই থেকে চার পাঁচটা চুল পড়া এটা কোন জটিল বিষয় না তবে যদি দেখা যায় যে দৈনিক 10 থেকে 15 টা বা তারও বেশি চুল পড়তেছে তাহলে সেটা ভাববার বিষয় এবং তখন আপনাকে চিকিৎসা হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যম গ্রহণ করতে হবে এবং এটা নিয়ে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগতে পারে।

চুল পড়ার কারণ সমূহ

পুষ্টিহীনতার কারণ স্বাভাবিকভাবে যখন আমরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে তখন আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল থাকে সে ক্ষেত্রে শারীরিক দুর্বলতা ভিটামিনের অভাবে চুল পড়তে পারে তার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন থেকে বিরত থেকে চেষ্টা করব কিভাবে আমরা ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি গানের মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করতে পারি। আমাদের শরীরের যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার দরকার হয় তেমনি আমাদের শরীরের জন্য দরকার হয় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি যা আমরা যখন ব্যর্থ হয় তখন আমাদের চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে : আমরা যখন বিভিন্ন ঔষধের ব্যবহার করে থাকে বিভিন্ন কারণে তখন দেখা যায় যে এই ধরনের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের চুল পড়ে যেতে পারে এবং আমরা যখন কোন ধরনের ওষুধ কিনবে তখন অবশ্যই এটার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিব। কেননা প্রত্যেক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে তবে এই ওষুধের যদি চুল পড়া বন্ধ থাকে সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বিষয়টা ভাবতে হবে।

মাথায় খুশকি জনিত কারণ: অনেকের মাথায় অতিরিক্ত ময়লা বা খুশকি জমে থাকার কারণে মাথার চুল পড়ে যায় এক্ষেত্রে মাথা পরিষ্কার করা বা মাথা পরিষ্কার করার অত্যাধুনিক শ্যাম্পু ব্যবহার করে আমরা এই চুল পড়া রোধ করতে পারি।

বার্ধক্য জনিত কারণ : বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনিতেই দুর্বল হয়ে যায় এবং সেগুলো আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হওয়ার পথে চলে যাই তাই বয়সের সাথে যখন আমাদের চুল পড়ে যাবে তখন আমাদের এটা মেনে নিতে হবে যে প্রাকৃতিক ভাবে এটা চুল পড়তেছে এবং এটাই স্বাভাবিক। কোন ধরনের জটিল চিকিৎসা বা চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা এতটা দরকারি না।

দুশ্চিন্তাজনিত কারণে চুল পড়া: সমাজে অনেকেই আছেন যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে থাকেন এবং সবসময় কষ্ট অবসাদে ভোগে থাকেন যার ফলে মাথার চুল পড়ে যেতে পারে এবং চুল ভেঙ্গে যেতে পারে সে ক্ষেত্রে যাদের এই দুশ্চিন্তায় অত সমস্যা আছে তারা এই চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে।

পানি কম খাওয়ার কারণে : অনেক ছেলে-মেয়ে আছে সমাজে যারা পানি পানি খাওয়ার প্রতি তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না এবং বিশেষ প্রয়োজনে পানি পান করা ছাড়া তারা নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করে না সে ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয় এবং পানিশূন্যতা দেখা দিলে শরীরের অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি মাথার চুল পড়ে যেতে পারে।

আরো পড়তে পারেন

মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম

অনলাইন ইনকাম / টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই

চুল পড়া রোধে ঘরোয়া উপায়

আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করে বা তার ওষুধ সেবন করে আমরা আমাদের শুল্ক আরোপ করতে পারি তবে এই ঔষধে থাকে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা আমাদের শরীরের অন্যান্য রোগের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে তাই আজকে আমি আপনাদেরকে দেখাবো কিভাবে আপনি ঔষধ ব্যতীত প্রাকৃতিক কিছু উপায় অবলম্বন করে চুল পড়া রোধ করতে পারবেন এবং লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সুবিধা পাবেন।

  • প্রতিদিন ঘুমানোর আগে মাথার চুল গুলো ভালোভাবে নারিকেল তেল দিয়ে মেসেজ করে নিবেন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ভালোমানের কোন একটি শ্যাম্পু দিয়ে আপনার চুলটা ধুয়ে নিবেন।
  • চুল পড়া রোধ করতে খুব কার্যকরী ভাবে সহায়তা করে অ্যালোভেরার পাতা আপনি প্রয়োজনে চুল পড়া রোধ করতে অ্যালোভেরার পাতা ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা পাতার রস করে মাথায় রেখে দিলে এবং একঘন্টা পরে দিলে চুল হয় খুশকিমুক্ত চুলের গোড়া শক্ত হয় এভাবে আপনি চুল পড়া রোধ করতে পারবেন।
  • চুল পড়া রোধের ডিমের ভূমিকা অন্যতম এক্ষেত্রে আপনি একটি ডিমের কুসুমের সাথে হালকা অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট করে মাথায় দিতে পারেন। এভাবে মাথায় দিয়ে এক ঘণ্টা রাখার পর আপনি ভালো মানের শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে আপনার চুল হবে সুন্দর খুশকিমুক্ত। পাশাপাশি নতুন চুল গজাতেও সহায়তা করবে এই মিশ্রণ।
  • চুল ভালো এবং কার্যকর রাখতে অলিভ অয়েলের ব্যবহার অন্যতম। বিভিন্ন কাজে অলিভ অয়েলের উপকারিতা অব্যর্থ যেটা আপনারা অনেকেই জানেন তবে চুলের ভালো রাখতে আপনি অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারবেন এক্ষেত্রে চুলে অলিভ অয়েল ম্যাসেজ করে নিবেন এবং একঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেললে আপনার চুল হবে এবং চুলের গোড়া শক্ত হবে।
  • যত্নে আপনি আমলকি ব্যবহার করতে পারেন আমলকি সাথে শিকাকাই পাউডার এবং সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট করে মাথায় দিয়ে রাখতে পারেন এবং এটা মাথায় রাখার পরও 40 মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলবেন এতে করে আপনার চুল পড়া কমবে।
  • রান্নাঘরে ব্যবহৃত অতি পরিচিত একটি সবজি হচ্ছে পেঁয়াজ যেটা মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয় তবে আপনি চাইলে আপনার চুল ভালো রাখার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। একটি সামান্য পেঁয়াজের রসের সাথে একটু পানি মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখেন এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
  • চুল পড়া রোধের লেবুর রসে ভূমিকা অন্যতম অন্যান্য স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর একটি সবজি যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজে বা খাবারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি। নেপথ্যে রয়েছে সাইট্রিক এসিড এবং চুল পড়া রোধ করতে প্রয়োজনীয় উপাদান এজন্য আমরা সামান্য লেবুর রস চুলে ব্যাবহার করলে এবং এদের ঈদের সময় বাড়িতে ফেলে আমাদের শুরু হয় শক্ত এবং সুন্দর সে ক্ষেত্রে আপনি এটা ব্যবহার করতে পারেন।

চুল পড়া রোধের জীবনধারণের পরিবর্তন

উপরোক্ত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করার পরেও আমাদের কিছু জীবন ধারণ পরিবর্তন করতে হবে যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে পারে এবং আমাদের চুল পড়া রোধ করতে পারব যেগুলো আমাদের জীবনের জন্য খুবই দরকারি।

১. চুল পড়া রোধ করার জন্য আমাদেরকে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। যখনি মনে হবে যে পানির পিপাসা লেগেছে এবং পানি খাওয়া দরকার তখনই আপনি নিয়মিত বিরতিতে পানি খেয়ে নিবেন কারণ পানির অপর নাম জীবন এবং এটা আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ পতঙ্গ কাজ করতে সহায়তা করে।

২.ঘুম মানব জীবনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘুম ছাড়া জীবন যেন আমাদের বিরুদ্ধে কর তাই আমরা নির্ধারিত সময়ে রাতে খাওয়া-দাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব এবং শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করব। দৈনিক 6 থেকে 7 ঘন্টা ঘুমানো আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং এই ঘুমের যদি ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে কিন্তু আমাদের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই চুল পড়া সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

৩. চুল পড়া রোধে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা খুবই জরুরি কারণ আমরা যদি সবসময় দুশ্চিন্তা করতে থাকে বা কোন একটা বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে এতে করে আমাদের মাথার চুল পড়বে এটাই স্বাভাবিক তাই আমরা চেষ্টা করব সব সময় হাসিখুশি ভাবে থাকার যেন আমাদের দুশ্চিন্তা আঁকড়ে ধরতে না পারে পাশাপাশি কোন ধরনের অবসর যেন আমাদের কাছে চায় না পায় সেদিকে খেয়াল রাখব আর চুল পড়া রোধে নিজেকে সুস্থ মনের আনন্দেতে ভাবে রাখবো।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার আমাদের শরীরে যেমন বিভিন্ন ঘাটতি পূরণ করতে পারে তেমনি এই পুষ্টিকর খাবার আমাদের চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে তাই আমরা যখনই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যতালিকায় খাদ্য সংগ্রহ করবো। তখন অবশ্যই আমরা সেখানে পুষ্টিকর খাবার বেশি রাখার চেষ্টা করবো এতে করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব দিক দিয়ে লাভবান হব।

শেষ কথা

চুল যদিও মানবদেহের একটি বহিরঙ্গ তবে চুল আমাদের সৌন্দর্য বর্ধনে অনেক সহায়তা করে এবং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের জন্য চুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই চুলের যত্নে অবহেলা নয় অবশ্যই শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রতঙ্গের পাশাপাশি চুলের যত্নেও আপনার যথেষ্ট দায়িত্বশীল হব।

jh tipu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *